বিশেষ প্রতিনিধি, Team Ovijog।।
শিরোনাম:
“প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের হোতা মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ: কোটি টাকার মালিকানায় উত্থান”
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর ভয়ড়া গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা যুবক মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ আজ স্থানীয় মহলে এক আলোচিত নাম। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি খুব বেশি অগ্রসর নন, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—তিনি দেশের অন্যতম কুখ্যাত প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি থেকে শুরু করে বিসিএস—সবকিছুতেই প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই বিদ্যুৎ।
সিন্ডিকেটের মূল কারিগর
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যুতের পাশে আছেন তার বিশ্বস্ত সহযোগী—সোহেল, যিনি “বিদ্যুতের পিএস” নামে পরিচিত। অবৈধ লেনদেন থেকে শুরু করে অর্থ বণ্টন—সবকিছুই তার হাত দিয়েই সম্পন্ন হয়। সোহেলকে বলা হয় বিদ্যুতের ছায়াসঙ্গী, যিনি প্রকাশ্যে খুব কমই আসেন, কিন্তু আড়ালে থেকে পুরো সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কোটি টাকার বাড়ি, হঠাৎ উত্থান
অভিযোগ রয়েছে, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ সরিষাবাড়ি উপজেলায় প্রায় ৪–৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোথা থেকে এ বিপুল অর্থ এল? এলাকার কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের দুঃসহ জীবনযাত্রার বিপরীতে বিদ্যুতের এ হঠাৎ উত্থান কৌতূহল জাগিয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের পরও থেমে নেই কার্যক্রম
দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁস বিরোধী অভিযান চললেও বিদ্যুতের কার্যক্রমে কোনো প্রকার ভাটা পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এখনো অবলীলায় অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্নফাঁস কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বিদ্যুৎ ও তার সহযোগীদের কারণে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন—বিদ্যুতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলা সহজ নয়। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তিনি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন যে সাধারণ মানুষ ভয়ে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না। বিদ্যুতের অপরাধ সাম্রাজ্য রক্ষায় পরিবারের প্রভাবশালী অবস্থানও ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ।তার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম বাবু ৭ নং সিধুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।যিনি ৫ আগষ্টের পর থেকেই পতালক।এ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বিদ্যুতের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না অনেকেই নীরবে আশা করছেন—একদিন রাষ্ট্রীয় সংস্থার কঠোর নজরে তার অপরাধ চক্র ভেঙে পড়বে।
উপসংহার:
মেহেদী হাসান বিদ্যুতের মতো কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত অর্থলাভের জন্য পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে এ ধরণের চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে—যার খেসারত দিতে হবে পুরো সমাজকেই।