বিশেষ প্রতিনিধি, Team Ovijog Desk।।
ঢাকার **ঝিগাতলা এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি থানার যুগ্ন সমন্বয়কারী জান্নাত -আরা রুমি নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় রাজধানী আজ কাঁপছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝিগাতলা জান্নাতী গার্লস হোস্টেল-এর পঞ্চম তলার একটি ঘর থেকে তাঁর মর*দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্ম*হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ফলে শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন এটিকে সুসাইড হিসেবে দেখছে, যদিও হত্যা*কাণ্ড বা অন্য কোনো ঘটনা বাদ দেওয়া হয়নি এবং পুরো ঘটনা তদন্তাধীন রাখছে।
জান্নাত আরা রুমি, বয়স আনুমানিক ৩২ বছর, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুরের মোঃ জাকির হোসেনের কন্যা; তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা)জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে হোস্টেলের বসবাসরত সহকর্মী বা ঘনিষ্ঠরা তাঁর ঘরের দরজা খুলে না দেয়ায় হোস্টেল কর্মী সকালে দরজা দু’বার খুলে দেখতে গেলে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে পান এবং ৯৯৯-এ খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহটি পৃথক করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়, যেখানে পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, রুমি ঘরে একাই থাকতেন, এবং তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন—স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তিনি পারিবারিক কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, কিন্তু তদন্তে সঠিক কারণ বের করা হবে। মরদেহ উদ্ধার ও আইনি কার্যক্রমের পর একটি ইউডি (UD) মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব হাফেজ তারেক রেজা একটি ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, রুমির জীবনের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি এবং তিনি চাইছেন “যারা আমার বোনের জীবন তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন শান্তিতে কাটাতে দেব না”—এরকম মন্তব্য করে তিনি এই ঘটনাকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে নেননি, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে আক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি তুলেছেন যে এটা কোনো সাধারণ আত্মঘাতী ঘটনা নয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মানসিক চাপ-ব্যক্তিগত সমস্যা, কিংবা সহিংসতা-হত্যা—যে কোনো দিক থেকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চিতভাবে বিস্তারিত জানাবে। এই হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা-ঘটনা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই রিপোর্টটি আজকের (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, এবং সময়ক্রমে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ময়নাতদন্তের পরবর্তী প্রতিবেদনের আলোকে আরো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।