বিশেষ প্রতিনিধি, Team Ovijog Desk।।
জকসু নির্বাচন: মাইক কেড়ে নিয়ে ছাত্রদলের ভুয়া ভুয়া স্লোগান প্রচারণায় নেই লড়াকু শান্তা, স্লোগান দেওয়া নিয়ে হেনস্তার শিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, পীরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল ক্যাম্পাস। এই নির্বাচনে কার্যকরী সদস্য পদে লড়ছেন ইনকিলাব মঞ্চের পরিচিত মুখ ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা শান্তা আক্তার। তবে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নিজের জন্য প্রচারণায় নামতে পারেননি এই লড়াকু শিক্ষার্থী।
রাজপথের লড়াকু এখন নির্বাচনী মাঠে
শান্তা আক্তার জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকেই রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাদি ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এখন অবধি তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রাস্তায় পড়ে আছেন। নিজের নির্বাচনের চেয়েও দেশের ও ক্যাম্পাসের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তিনি একদিনের জন্যও নিজের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, হাদি ভাই সুস্থ থাকলে হয়তো আজ শান্তার জন্য দোয়া চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব থাকতেন।
স্লোগান দেওয়া নিয়ে হেনস্তা ও বিশৃঙ্খলা
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, 'নারায়ে তাকবীর' স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে শান্তা আক্তারকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। একটি পক্ষ তার মাইক কেড়ে নেয় এবং 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা বলছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে কেউ তার আদর্শের স্লোগান দিতে পারেন। কিন্তু সেই কারণে একজন নারী শিক্ষার্থী ও প্রার্থীর ওপর চড়াও হওয়া এবং মাইক কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচারী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—"নারায়ে তাকবীর" স্লোগানে সমস্যা কোথায়? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু জবাবদিহি দাবি করেছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শান্তার লড়াকু মানসিকতা এবং ত্যাগের প্রশংসা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চাই। শান্তা যেভাবে আন্দোলনের কঠিন সময়ে পিছু হটেননি, তা তার যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। অথচ সুযোগ পেলেই যারা অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তারা পরোক্ষভাবে পুরনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থারই চর্চা করছে।
শান্তা আক্তারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার সফলতা কামনা করে বলেন, "আমাদের অফুরন্ত দোয়া তোমার জন্য। আমরা চাই যোগ্যতার নিরিখে আল্লাহ তোমাকে কামিয়াবি দান করুক।"