বিষপ্রয়োগে হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধা ও ছাএনেতা মোঃ আরিফ, পাশে নেই কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মোঃ নুর জামাল হক ( স্টাফ রিপোর্টার) ২৪-এর জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান নেতা মোঃ আরিফ বিষপ্রয়োগের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগী ও তার সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবিকতার সুযোগ নিয়ে ইমরান নামের এক প্রতারক পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ওই ব্যক্তি নিজেকে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মোঃ আরিফের কাছে সহযোগিতা চান। তিনি জানান, জানুয়ারি মাস থেকে তিনি বেতন পাবেন এবং সরকারি বাঙলা কলেজ এলাকার একটি মেসে সিট খালি হলে সেখানে উঠবেন। তবে ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় তার থাকার জায়গা ও খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করেন। নিজের আর্থিক সংকটের মধ্যেও মানবিক বিবেচনায় মোঃ আরিফ তাকে আশ্রয় দেন। কিছুদিন পর আরিফের রুমমেট বাড়ি চলে গেলে, ওই ব্যক্তি জানায় যে জানুয়ারি পর্যন্ত সে আর ফিরবে না। তখন আরিফ তাকে কয়েকদিন বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ দেন এবং শুধু খাবার ও বাসার খালার বিল দেওয়ার শর্ত দেন। এতে সম্মতি জানায় ওই ব্যক্তি। পরবর্তী প্রায় ১২ দিন মোঃ আরিফ নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই তাকে নিয়মিত খাবার খাওয়ান। এমনকি হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা সত্ত্বেও তিনি তাকে ৫০০ টাকা সহায়তা দেন এবং বলেন, আপাতত এই টাকা দিয়ে চলতে, পরে একসাথে হিসাব মেটানো যাবে। কথা ছিল মাসের ১ তারিখে সব টাকা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ৩০ তারিখ রাতে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি রাতের খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত ও চেতনা-নাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয়। খাবার গ্রহণের পর মোঃ আরিফ ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের সব মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার অভাব। দীর্ঘদিন দেশ, গণতন্ত্র ও ছাত্র অধিকারের আন্দোলনে যুক্ত থাকা এই ছাত্রনেতার পাশে তার নিজ সংগঠনের কেউ দাঁড়াননি বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তি কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতা তাকে হাসপাতালে দেখতে যাননি বা খোঁজ নেননি বলে জানান ভুক্তভোগী পক্ষ। এ বিষয়ে মোঃ আরিফ সরকারি বাঙলা কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব সৈকতকে বিষয়টি জানালে তিনি জানান, তিনি নিজে অসুস্থ থাকায় অন্যরা গিয়ে খোঁজ নেবে। তবে বাস্তবে কলেজ শাখার কোনো নেতা বা সংগঠনের কেউ হাসপাতালে যায়নি বলে অভিযোগ করেন আরিফ। ঘটনার বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, এটি কলেজ কমিটি দেখবে এবং তিনি কলেজ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কলেজ কমিটি জানিয়েছে যে তারা আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে বাঙলা কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং আরিফকে প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তবে ভুক্তভোগী মোঃ আরিফ এসব দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কলেজ শাখা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কেউ তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। পরবর্তীতে মোঃ আরিফ ও তার বন্ধুরা সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই কাদের জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ওসি’র কাছে জমা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মানবিকতার মূল্য দিতে গিয়ে জীবননাশের ঝুঁকিতে পড়া একজন জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্রনেতার এই ঘটনা ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং সংগঠনের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। |
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

