ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই, ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সংখ্যালঘু ভোট
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই, ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সংখ্যালঘু ভোট
আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে বিএনপি, জয়ের প্রত্যাশায় জামায়াত
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী ২৯ অক্টোবরের ভোট সামনে রেখে প্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৮ জন। নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে আলোচনা
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরে ভোটের মাঠে বিশেষ আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ দুই প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার চিত্র দেখে চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বিএনপির সামনে রয়েছে আসনটিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এ আসনে বিজয়ের প্রত্যাশা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটের সমীকরণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও রাজনৈতিক আলোচনার একটি বিষয়।
দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরে জামায়াতের প্রত্যাশা
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
দলীয় সূত্রের দাবি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্রেপ্তার ও দীর্ঘদিন রিমান্ডে থাকার ঘটনা তাঁকে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জোটের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
শহর থেকে গ্রাম, হাটবাজার থেকে পাড়া-মহল্লা—বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে সাধারণ ভোটারদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দাবি করছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তবে প্রচারণায় উপস্থিতি কিংবা সমর্থনের দাবি দিয়ে ভোটের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যায় না।
সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও আলোচনা
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় অনেকের ধারণা, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট কোনো একটি প্রার্থীর পক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে একত্রিত হলে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের মতে, দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম হলে এ ভোট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা সম্মিলিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটারদের পছন্দ একরকম হবে, এমনটিও ধরে নেওয়া যায় না। প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোট নয়, তরুণ, নারী এবং সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণও নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কতটা জনসমর্থন অর্জন করতে পারবেন, তা নির্ভর করবে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ও ভোটের ফলাফলের ওপর।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেলাওয়ারের
জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। থাকবে না সন্ত্রাস, মাদক, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব।”
তিনি নির্বাচনে সবার দোয়া কামনা করেন।
শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে ভোটের হিসাব?
নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তবে প্রচারণার গতি, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি কিংবা স্থানীয় আলোচনার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন।
বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভোটের প্রবণতা, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবেন, তা জানতে ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
- ফজর
- ৪:০০ - ৪:১৫ মিনিট
- জোহর
- ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট।
- আসর
- ৫:১৫ - ৫:৩০ মিনিট
- মাগরিব
- ৬:৫০ - ৭:০০ মিনিট
- এশা
- ৮:৩০ - ৮:৪৫ মিনিট
- জুমা
- ১:১৫ - ১:৩০ মিনিট






