1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে মাঠ পরিদর্শন করে জমি মেপে দিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার।

রিপোর্টারের নামঃ মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ
  • আপডেট টাইমঃ 21-11-2025 ইং
  • 6602 বার পঠিত
ad728

পীরগঞ্জে মাঠ পরিদর্শন করে জমি মেপে দিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার।


মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ

উপজেলা প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ


ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমি–সংক্রান্ত বিরোধ অবশেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের হস্তক্ষেপে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা লিগ্যাল এইডের চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন এবং জমির সীমানা নির্ধারণ ও ভাগ চূড়ান্ত করে দেন।


নারায়নপুর গ্রামের ১ একর ১৯ শতক জমি নিয়ে পারুল বেগম ও ইমদাদুল হকের ভাগিদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ঘটনাটি গ্রহণ করে এবং আইন অনুযায়ী সরেজমিনে তদন্ত ও পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকে জমির পরিমাপ, পূর্ব মালিকানা নথি, ভূমি রেকর্ড, মাঠ জরিপ এবং সাক্ষ্য–প্রমাণ বিশ্লেষণ করে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাটোয়ারার সীমানা নির্ধারণ করা হয়।


বিনা খরচে এমন বিচারিক সহায়তা পেয়ে উভয় পক্ষেই স্বস্তি ফিরে আসে এবং ভবিষ্যৎ মামলা–মোকদ্দমার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পায় পরিবারগুলো। থানা পুলিশ, গণমাধ্যম কর্মী ও লিগ্যাল এইডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক মজনু মিয়া ঘটনাস্থলে ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে গিয়ে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। তিনি গ্রামবাসী, উভয় পক্ষ এবং মাঠে সহায়তাকারী কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ প্রদান করা হয়।


আইনি ব্যাখ্যা ও ধারার ভিত্তি (সংযোজিত বিশ্লেষণ)


এই ধরনের জমি–সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রযোজ্য হয়। এখানে প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো যুক্ত করে স্পষ্ট করা হলো:


১) লিগ্যাল এইড আইন — ২০০০ (Legal Aid Act, 2000)


ধারা 7 ও ধারা 8


জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, সালিশি বা মীমাংসা করার ক্ষমতা রাখে।


ধারা 8 অনুযায়ী, প্রয়োজন মনে করলে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা গিয়ে তদন্ত ও সমাধানের ব্যবস্থা নিতে পারেন।

⇒ এই মামলায় কর্মকর্তা গিয়ে জমি মাপা ও আপোষ নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার আইনগতভাবে সঠিক।


২) দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)


Order XXVI (Commission for Local Investigation)


কোনো মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য আদালত মাঠে কমিশন পাঠাতে পারে—জমি মাপা, সীমানা যাচাই, প্রতিবেদন প্রস্তুত ইত্যাদি করতে।


যদিও এখানে আদালত কমিশন নয়, লিগ্যাল এইড কমিটির বিবেচনায় বিচারিক কর্মকর্তা একই ধরণের স্থানীয় তদন্ত করেন, যা ADR-এর অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।


৩) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ আইন, 2010


ধারা ২৪–২৮: জমির সীমানা নির্ধারণ ও পরিমাপ


জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণে বৈধ রেকর্ড, খতিয়ান, পর্চা, মৌজা ম্যাপ এবং মাঠ জরিপ বিবেচনা করতে হয়।

⇒পরিমাপ ও নথিপত্র যাচাই এই ধারা অনুযায়ী শুদ্ধ পদ্ধতি।


৪) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন (ADR) – CPC Sec. 89 ও Arbitration/Conciliation Framework


মামলা না করে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সালিশ, মীমাংসা বা আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে উৎসাহিত করা হয়।

⇒ বিনা খরচে আপোষ-মীমাংসা সম্পন্ন হওয়া এ প্রক্রিয়ার সঠিক ব্যবহার।


কেন এটি একটি আদর্শ/মডেল সমাধান হিসেবে ধরা যায় — বিশ্লেষণ


১) মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ভুল বোঝাবুঝি দূর করে তাত্ক্ষণিকভাবে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

২) বিনা খরচে ADR সাধারণ মানুষের পক্ষে আদালতে দীর্ঘ মামলা–মোকদ্দমার চাপ কমায়।

৩) সঠিক আইনি ভিত্তির ওপর সীমানা নির্ধারণ ভবিষ্যৎ মামলার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে।

৪) স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ad728
ad728